ক্যাশ মেমোরি (Cache Memory) বলতে কী বোঝায়? ক্যাশ মেমোরির সুবিধা, শ্রেণীবিভাগ।

 কাজের দ্রুততা আনয়নের জন্য প্রসেসর ও প্রধান মেমোরির অন্তর্বর্তী স্থানে স্থাপিত বিশেষ ধরনের মেমোরিকে ক্যাশ মেমোরি (Cache Memory) বলা হয়। এর সংযোগ সময় খুব কম। এটি এক ধরনের স্ট্যাটিক স্মৃতি মেমোরি। কোন প্রোগ্রাম নির্বাহের সময় যে সমস্ত উপাত্ত খুব কম সময়ের ব্যবধানে পুনঃপুন প্রয়োজন হয় সেসব উপাত্ত একস্থানে রক্ষিত হয়। এই মেমোরি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক বর্তনী প্রয়োজন হয়। কার্যকারিতার উপর ভিত্তি করে ক্যাশ মেমোরিকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. অভ্যন্তরীণ বা ইন্টারনাল ক্যাশ মেমোরি (Internal Cache Memory)

২. বহিঃস্থ বা এক্সটার্নাল ক্যাশ মেমোরি (External Cache Memory)

অভ্যন্তরীণ ক্যাশ মেমোরি (Internal Cache Memory): মাইক্রোপ্রসেসরের অভ্যন্তরে অবস্থান করে যে ক্যাশ মেমোরি কাজ করে সেটিকে অভ্যন্তরীণ ক্যাশ মেমোরি বলে।

বহিঃস্থ ক্যাশ মেমোরি (External Cache Memory): যে মেমোরি কম্পিউটারের প্রধান বোর্ড বা মাদারবোর্ডের উপর একীভূত বর্তনী (Integrated Circuit) হিসেবে কাজ করে সেগুলোকে বহিঃস্থ ক্যাশ মেমোরি বলে।

ক্যাশ মেমোরির সুবিধাসমূহঃ

১. ক্যাশ মেমোরির অ্যাকসেস টাইম প্রধান মেমোরির অ্যাকসেস টাইমের এক সপ্তমাংশ।

২. ক্যাশ মেমোরির অ্যাকসেস টাইম কম।

৩. ক্যাশ মেমোরি দ্রুতগতি সম্পন্ন।

৪. ক্যাশ মেমোরি কম্পিউটারকে উচ্চগতি সম্পন্ন করে তোলে।


ক্যাশ মেমোরির শ্রেণীবিভাগ (Classification of Cache Memory)

বিশেষ প্রয়োজনে ক্যাশ মেমোরি তথা ক্যাশ র‌্যামকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। কাজের ওপর ভিত্তি করে এসকল র‌্যামকে ওইভাবেই নামকরণ করা হয়। কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন ধরনের ক্যাশ র‌্যাম ব্যবহূত হয়। নিচে তা উল্লেখ করা হলো।

মাদার বোর্ড ক্যাশ (Motherboard Cache): উপাত্ত ও তথ্য সঞ্চালনের গতি বৃদ্ধির জন্য এটা ব্যবহূত হয়। এর অবস্থান হলো মাইক্রোপ্রসেসর ও র‌্যামের মধ্যবর্তী স্থানে। এ অবস্থানে থেকে এটা উপাত্ত ও তথ্যের সূচিপত্র রক্ষার কাজ করে। প্রচলিত অর্থে এই ক্যাশ মেমোরিই হলো মাদার বোর্ড ক্যাশ।

প্রসেসর ক্যাশ (Processor Cache): প্রসেসরের সাথে যে ক্যাশ র‌্যাম ব্যবহার করা হয় তাকে প্রসেসর ক্যাশ বলা হয়। অভ্যন্তরীণ ক্যাশ এল-১ নামে এবং বাইরের ক্যাশ এল-২ নামে পরিচিত। এছাড়া আরো কিছু ক্যাশ মেমোরি আছে। যেমন—

১. ক্লায়েন্ট/সার্ভার ক্যাশ (Client/Server cache)

২. ডিস্ক ক্যাশ (Disk cache)

৩. রিমোট ক্যাশ (Remote cache)

৪. ইন্টারমিডিয়েট ক্যাশ (Intermediate cache)

৫. ওয়েভ সার্ভার/প্রস্কি সার্ভার ক্যাশ (Web server/Proxy server cache)

৬. ডিস্ট্রিবিউটেড ডাইরেক্টরি ক্যাশিং (Distributed directory caching) ইত্যাদি।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Search Ads